কখন শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা উচিত – When to buy & sell stocks
Adda- is the leading blog site on Bangladesh Capital Market. >> Basic of Investing>>Investment for Beginner>> কখন শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা উচিত – When to buy & sell stocks
কখন শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা উচিত – When to buy & sell stocks
শেয়ার ক্রয়- বিক্রয় একই সাথে একটি রোমাঞ্চকর, জটিল ও বিভ্রান্তিকর বিষয়। তাই শেয়ার ক্রয়- বিক্রয় এর সঠিক সময়ে নির্ণয়ের জন্য সবার আগে শেয়ার বাজার কীভাবে কাজ করে তা জানতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিস এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) এর অধীনে বাংলাদেশে দুইটি শেয়ার বাজার রয়েছে- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)। এই শেয়ার বাজার বা স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে ব্যপক সংখ্যক মানুষ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য লেনদেন করে থাকে। কারণ তাদের প্রত্যেকেরই শেয়ারের মূল্য সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা রয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী যদি মনে করে থাকেন শেয়ারের মূল্য বাড়তে পারে তবে আরেকজন বিনিয়োগকারী তার বিপরীত ভাবতে পারেন। তাহলে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন বিনিয়োগকারীর সিদ্ধান্তটি সঠিক?
এর উত্তর জানার জন্য আগে শেয়ার বাজার কীভাবে কাজ করে তা ভালভাবে বুঝতে হবে। সাধারণত শেয়ারের মূল্য হ্রাস পেলে ক্রয় করা হয় এবং বৃদ্ধি পেলে বিক্রয় করা হয়। অর্থাৎ আপনি যদি একটি শেয়ার ১০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে ১২০ টাকায় বিক্রয় করেন তবে আপনি ২০ টাকা মুনাফা লাভ করবেন। যেকোনো শেয়ারের মূল্য যেকোনো সময়ে যেকোনো দিন বিভিন্ন কারণে হ্রাস বা বৃদ্ধি পেতে পারে। হতে পারে কোম্পানিটিতে ব্যবসায়িক মন্দা চলছে এবং কোম্পানিটি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও আর্থিক বিশ্লেষকের নিকট থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন, ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে গুজব বা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কোন খবর ইত্যাদির কারণে শেয়ারের মূল্য হ্রাস পেতে পারে। এসকল অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর নিকটই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতে পারে। তাই, অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারে বিনিয়োগ না করে ইটিএফ (ETF), ইনডেক্স ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ডের মত বিকল্প বিনিয়োগ খাতগুলোতে বিনিয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যা একটি প্যাকেজের আওতায় একাধিক শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।
তবে এটা মাথায় রাখতে হবে যে পূর্বের পারফর্মেন্স শেয়ার বাজারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ এর নিশ্চয়তা দেয় না। কখন শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় করতে হবে তা কখনো কখনো পেশাদারদের পক্ষে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পরে। অর্থ ব্যবস্থাপক বা মানি ম্যানেজারদের সাধারণত শেয়ারে বিনিয়োগের থেকে শেয়ার বাজারে বিদ্যমান বেঞ্চমার্কগুলো অতিক্রম করায় বেশি আগ্রহ থাকে। একটি যথাযথভাবে পরিচালিত ইনডেক্স ফান্ড একটি নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হলেও, বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন কারণে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। যেমনঃ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, তারা তাদের আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চান, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দগুলো নির্বাচন করতে পারার সুযোগ (যেমন- যেসকল কোম্পানি সামাজিক সচেতনতা পালন করে বা সমর্থন করে সেসকল কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা) ইত্যাদি।
নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগে বৈচিত্রায়ন, ক্ষুদ্র পরিসরে বিনিয়োগ করা, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করা ইত্যাদি বিষয়ে জানা অত্যন্ত জরুরি। তবে সবথেকে জরুরি হল কখন, কোন সময়ে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় করতে হবে তা জানা।
কীভাবে জানব কখন শেয়ার ক্রয় করতে হবে?

কোনো বিনিয়োগকারী যখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করে এবিষয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকেন যে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তার আগ পর্যন্ত তারা শেয়ার সংরক্ষণ করতে আগ্রহী, তবে এই সময়টিই হবে শেয়ার ক্রয়ের জন্য সঠিক সময়। স্টক ক্রয়ের সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সম্পর্কে অবহিত থাকা একজন বিনিয়োগকারীকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে এবং এসকল তথ্যাদি সংগ্রহের সর্বোত্তম উপায় হল কোম্পানিটি সম্পর্কে জানা। আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা বিসেক (BSEC) থেকে বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও আয়ের রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন। যদিও একাধিক কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফলিও তৈরি করতে সাহায্য করে, তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা উত্তম। এক্ষেত্রে কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকলে কোম্পানির আয় প্রতিবেদনগুলো আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা যায়। একটি শেয়ারের ভ্যালু সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য শেয়ারের সাথে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটির সম্পর্কে ভালভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। তাই কোনো একটি কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের পূর্বে কিছু প্রশ্ন এবং সেগুলর উত্তর বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ
শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনার মূল্য–সীমা কত?
যদি কোনো বিনিয়োগকারী কোনো একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করায় আগ্রহী হন তবে কোন মূল্য-সীমার মধ্যে তারা কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয়ে ইচ্ছুক তা নির্ধারণ করলে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে থাকে। একজন বিনিয়োগকারী আর্থিক বিশ্লেষকের সহায়তায় মূল্য-সীমা নির্ধারণ করতে পারেন।
শেয়ারটি অবমূল্যায়িত কিনা?
শেয়ার মূল্যায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হল মূল্য-আয় অনুপাত যা শেয়ার প্রতি মূল্যকে শেয়ার প্রতি আয় দ্বারা ভাগ করে নির্ণয় করা হয়। মূল্য-আয় অনুপাতের মান যত কম হয় শেয়ারের ভ্যালু ও তত কম ধারণা করা হয়।
এছাড়াও শেয়ার মূল্যায়নের আরও একটি উপায় হল বাট্টাযুক্ত নগদ প্রবাহ বা ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (DCF) বিশ্লেষণ যা প্রত্যাশিত নগদ আয়কে বর্তমান মূল্যে পরিবর্তন করে। এটি একজন বিনিয়োগকারীকে একটি আনুমানিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। যদি শেয়ারের মূল্য
লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকে তবে ধারণা করা হয়ে শেয়ারটি অবমূল্যায়িত এবং এটি ক্রয় করা একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত।
শেয়ারটি যথাযথ লভ্যাংশ প্রদান করে কিনা?
কোনো কোম্পানির শেয়ার তার শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করতে সক্ষম হলেই উক্ত শেয়ার ক্রয়কে একটি লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয় না। তবে বিনিয়োগকারীর সম্ভাব্য আয় অনুমান করার ক্ষেত্রে লভ্যাংশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। তবে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বিবেচনা করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মতে একটি জনপ্রিয় শেয়ারে বিনিয়োগ করা আপাতদৃষ্টিতে লাভজনক মনে হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই শেয়ারগুলো শেয়ারের প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অধিক জনপ্রিয় হয়ে থাকে।
কীভাবে জানব কখন শেয়ার বিক্রয় করতে হবে?

বিনিয়োগকারীরা যেমন শেয়ার ক্রয়ের সময়ে একটি পছন্দসই মূল্য-সীমা নির্ধারণ করে থাকেন তেমনি বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও মূল্য-সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। প্রতি শেয়ারই ভ্যালুর দিক থেকে বাজারের শীর্ষস্থানে অবস্থান করার লক্ষ্যে কাজ করে। তবে যখন শেয়ারের ভ্যালু এর সংশ্লিষ্ট মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারেনা তখন শেয়ারটি বিক্রয় করার উত্তম সময়।
সাধারণত, একজন বিনিয়োগকারী একটি শেয়ার শুধুমাত্র বিক্রয়ের উদ্দ্যেশে ক্রয় করেন না। তিনি শেয়ারটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে তা হতে মুনাফা ভোগ করাও শেয়ারে বিনিয়োগকারীর একটি অন্যতম লক্ষ্য। যখন একজন বিনিয়োগকারী একটি অবমূল্যায়িত শেয়ার ক্রয় করেন তখন শেয়ারটির মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে একটি লাভজনক মূল্যে পৌঁছাতে এবং যথাযথ ভ্যালু হওয়ার জন্য কয়েক বছর সময় দরকার হয়। তবে এক্ষেত্রে শেয়ারটি কখনই বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশিত ভ্যালুতে না পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। সকল বিনিয়োগকারীই দীর্ঘদিন শেয়ার ধরে রাখতে আগ্রহী থাকেন না। কারন এতে দৈনন্দিন শেয়ার বাজারের লেনদেন এর ফলে শেয়ারের ভ্যালু পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে।
এমন একাধিক পরিস্থিতি রয়েছে যখন একজন বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রয়ের সিধান্ত নিতে পারেন। শেয়ার বিক্রয়ের উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ নিম্নরূপঃ
শেয়ারের সাথে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির উপর থেকে আস্থা হারানো
সাধারণত একজন বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট আয়ের প্রত্যাশায় বা শেয়ারের ভ্যালু বিবেচনায় শেয়ার ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে শেয়ারটির সাথে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও মূল লক্ষ্যে যদি
পরিবর্তন দেখা যায় তবে উক্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি পুনরায় মূল্যায়ন করা উচিত। এরূপ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে কোম্পানির প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, প্রত্যাশিত আয়ের হার হ্রাস পাওয়া, নানাবিধ আইনি সমস্যা বা সন্দেহজনক বা ভ্রান্তিমূলক নেতৃত্ব ইত্যাদি। তবে এসব কারণে কোম্পানির উপর থেকে আস্থা হারিয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পূর্বে এই পরিবর্তনগুলো স্বল্পমেয়াদী কিনা এবং শীঘ্রই কোম্পানিটি পূর্বের অবস্থায় ফিরবে কিনা বা এসকল পরিবর্তনের কারনে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে।
সুযোগ ব্যয়
সুযোগ ব্যয় বলতে সেই পরিমাণ অর্থকে বোঝায় যা একটি বিকল্পের পরিবর্তে অপর একটি বিকল্প গ্রহণের ফলে হাত ছাড়া হয়ে যায়। শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগ ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। যখন একজন বিনিয়োগকারী কোনো একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তখন তার অন্য কোন খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল নাও থাকতে পারে। অতএব, বিনিয়োজিত শেয়ারের তুলনায় অন্য কোনো উৎস হতে যদি অধিক মুনাফা লাভ করার সম্ভাবনা থাকে তবে বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পুনঃমূল্যায়ন করতে পারেন।
শেয়ারটি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া
একাধিক শেয়ারের মধ্যে তুলনা করতে বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই মূল্য-আয় অনুপাত ব্যবহার করেন। কোনো একটি শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত যত বেশি শেয়ারতি অন্যান্য শেয়ারের তুলনায় তত বেশি লাভজনক বলে বিবেচিত। তবে একটি শেয়ারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য শুধুমাত্র মূল্য-আয় অনুপাতের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। শেয়ারতি অতিমূল্যায়িত কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ঐতিহাসিক মূল্য, প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের আয়ের হার ইত্যাদি যাচাই করা জরুরি। যদি শেয়ারটি কোনো কারণে অতিমূল্যায়িত হয়ে থাকে তবে বিনিয়োগকারীর উচিত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি পুনঃমূল্যায়ন করা।
তারল্যের প্রয়োজনীয়তা
বিনিয়োগকারীর ব্যক্তিগত কারণে, জরুরি প্রয়োজনে বা যেকোনো কারণে নগদ অর্থের প্রয়োজনে বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রয় করতে পারেন। বিনিয়োগকারী একাধিক শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকলে কোন এর মধ্যে থেকে কোন শেয়ারটি বিক্রয় করা সবথেকে লাভজনক তা যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন স্টকগুলো ভবিষ্যৎ লাভজনকতার দিকথেকে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে তা নির্ণয় করতে হবে।
মূলধন আয়ের উপর ধার্যকৃত কর এড়ানোর জন্য
যদিও ট্যাক্সের উপর নির্ভর করে শেয়ার বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়, তবুও এটি একজন বিনিয়োগকারীর সিদ্ধান্তকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে। কারণ যখনি একজন বিনিয়োগকারী রিটায়ারমেন্ট একাউন্ট ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় করেন তখনি তার মূলধন আয়ের উপর কর ধার্য করা হয়। ক্ষতিতে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে এই ট্যাক্সের ব্যয় কিছুটা এড়ানো সম্ভব। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে থাকে। তবে একজন বিনিয়োগকারী যদি আগে থেকেই এই বিষয়টি বিবেচনা করতে চান তবে একজন অভিজ্ঞ ট্যাক্স বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
পোর্টফলিও পুনঃমূল্যায়ন
বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফলিওতে বৈচিত্র্য আনার জন্য এবং বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর মধ্য ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রায় সময়ই শেয়ার বিক্রয় করে থাকেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে পর পোর্টফলিও পুনরায় মূল্যায়ন করা এটাই নিশ্চিত করে যে বিনিয়োগ প্রকল্পগুলি এখন বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশিত আয় ও মূল লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম। আর যদি তা না হয় সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী সেগুলো বিক্রয় করে অন্য কোনো লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কীভাবে জানব কখন শেয়ার ধরে রাখতে হবে

একজন বিনিয়োগকারী কখন শেয়ার সংরক্ষণ করবে তা বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ কৌশলের উপর নির্ভর করে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে ধরে রাখেন বছর শেষে লভ্যাংশ আয়ের জন্য একজন যা কিনা সম্পদ সর্বাধিক করণে সহায়তা করে। বিনিয়োগকারী যদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, সামগ্রিক বাজারের পরিস্থিতি, নিজস্ব আর্থিক লক্ষ্যসমূহ ইত্যাদি সম্পর্কে যথাযথ গবেষণা করেন তবে কখন একটি শেয়ার ক্রয় করতে হবে, বিক্রয় করতে হবে বা সংরক্ষণ করতে হবে তা নির্ধারণ করা তুলনামূলক কম বিভ্রান্তিকর হয়ে থাকে। এতে করে একজন বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োজিত শেয়ারগুলো আরও দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিচালনা করতে পারবেন এবং স্বল্প সময়ে প্রত্যাশিত আয় অর্জনে সফলতা লাভ করতে পারেন।
2 thoughts on “কখন শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করা উচিত – When to buy & sell stocks”
Leave a Reply Cancel reply
Related Post
- February 25, 2021
- by Tasniya Jahan
- 0
- 10:48 am
সিডিবিএল (CDBL) – Central Depository Bangladesh Limited
২০০০ সালে ২০শে আগস্ট থেকে সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ মোতাবেক বাংলাদেশে…
- October 15, 2019
- by Rakibul Hossen
- 0
- 11:37 am
শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে লাভ করাটা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।
সবাই চে্টা করে শেয়ার হতে লাভ করার।
তবে, সবার দ্বারা তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এ জন্য শেয়ার ব্যবসা জেনে বুঝে করতে হয়।