Listing Procedure – তালিকাভুক্তিকরণ পদ্ধতি

Tasniya JahanPosted by

Listed company বা তালিকাভুক্ত কোম্পানি বলতে এমন কোনো কর্পোরেট একক বা কোম্পানিকে বোঝায় যা আইনানুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার বিক্রয়ের জন্য তালিকাভুক্ত।

সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ (অধ্যাদেশ নং XVII, ১৯৬৯) এর সংজ্ঞানুযায়ি, Listed Share বা তালিকাভুক্ত শেয়ার বলতে কমিশন দ্বারা অনুমোদিত (মিউচুয়াল ফান্ড বা যে কোনো কালেক্টিভ বিনিয়োগ স্কিম)শেয়ারকে বোঝায় যা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ।

সোজা কথায়, যখন কোনো কোম্পানি তার শেয়ারগুলো সাধারন বিনিয়োগকারিদের জন্য কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করে তাই তালিকাভুক্তিকরণ বা Listing. একটি কোম্পানি প্রথমবারের মত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজার থেকে একটি বিশাল অংকের মূলধন তুলে নিতে পারে যাকে IPO বা Initial Public Offering বলা হয়।

Listing Process in Bangladesh Stock Market

এখন আসা যাক, একটি কোম্পানিকে কিভাবে আমরা তালিকাভুক্ত করতে পারি??

Listing Process flow chart

বিস্তারিত আলোচনা-

সিদ্ধান্ত গ্রহণ

  • বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমদিত একজন ইস্যু ম্যানাজার নিয়োগ
  • ইস্যু ম্যানাজারের সাথে আলোচনা করে আইপিও এর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে (ফিক্সড প্রাইজ বা বুক বিল্ডিং)
  • বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অবলম্বন করতে BSEC অনুমোদিত অডিটর প্যানেলের মাধ্যমে কোম্পানির একাউন্ট অডিট করতে হবে।
  • ক্রেডিট রেটিং- যা ব্যাংক, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ও প্রিমিয়াম অফার প্রাইজ দেয়া কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক
  • কোম্পানির একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে এবং সেখানে আর্থিক অবস্থার বিব্রনি প্রকাশ করতে হবে

প্রসপেক্টাস প্রস্তুতকরণ

  • সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু),২০০৬ এর নিয়মানুসারে ইস্যু ম্যানাজারের সাহায্যে একটি খসড়া প্রসপেক্টাস তৈরী
  • ইস্যু এবং আন্ডাররাইটিং এর জন্য ব্যাংক নিয়োগ করতে হবে
  • ফিক্সড প্রাইজ পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের জন্য একটি অফার প্রাইজ নির্ধারণ করতে হবে এবং সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু),২০০৬ এর নিয়মানুসারে এর যথার্থতা বর্ণনা করতে হবে
  • বুক বিল্ডিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে আর্থিক তথ্য সম্বলিত স্বারকলিপি প্রস্তুত করতে হবে যা সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু),২০০৬ এর নিয়মানুসারে রোড শো (Road Show) এবং শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের জন্য ব্যাবহার করা হবে।
    • যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (Eligible Institutional Investors) নিয়ে রোড শো পরিচালনা
    • যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রতিটি শেয়ারের জন্য প্রস্তাবিত মূল্য সংগ্রহ
    • সার্বিক বিবেচনার মাধ্যমে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য (Indicative price) নির্ধারণ

জনগনের ক্রয়ের উদ্দেশ্যে শেয়ার ইস্যুর জন্য BSEC এর অনুমোদন গ্রহণ

  • সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) আইন,২০০৬ এর অধীনে আইপিও এর জন্য BSEC এ আবেদন করতে হবে এবং খসড়া প্রসপেক্টাসের কপি জমা দিতে হবে।
  • BSEC কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া প্রসপেক্টাসের সকল পরিবর্তন সময়মত সম্পাদন করতে হবে এবং তাদের সকল অনুসন্ধানে সহায়তা করতে হবে।
  • ইস্যু ম্যানাজারের সাহায্যে BSEC এবং এক্সচেঞ্জের প্রস্তাবনা অনুযায়ী খসড়া প্রসপেক্টাসের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সম্পাদন

আইপিও অনুমোদন প্রাপ্তি

  • অনুমোদিত প্রসপেক্টাসের দেশের বহুল প্রচলিত বাংলা ও ইংরেজী পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
  • চূড়ান্ত প্রসপেক্টাসের একটি কপি প্রিন্ট করতে হবে
  • ৩ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রসপেক্টাস কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে
  • এক্সচেঞ্জ কর্তৃক প্রকাশিত আইনানুযায়ী (Listing Regulations) তালিকাভুক্তির (Listing) জন্য আবেদন করতে হবে
  • ইস্যু পরবর্তী কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ইস্যু ম্যানাজার নিয়োগ দান

যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (Eligible Institutional Investors)সাথে নিলামে অংশগ্রহণ

  • BSEC কর্তৃক অনুমোদিত মূল্যে নিলাম (bidding) সংগঠনের জন্য এক্সচেঞ্জে আবেদন করতে হবে। যেখানে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যে কারা শেয়ার কিনতে পারবেন।
  • নিলাম বা bidding সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাদেরকে আইপিও allotment দেয়া হয়েছে তার একটি লিস্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং কাট অফ প্রাইজ জেনে নিতে হবে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার ইস্যুর সময় শেয়ারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে একটি রেঞ্জ দেয়া হয়। বিনিয়োগকারিদের মধ্যে শেয়ারের চাহিদার উপর ভিত্তি করে শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয়। যে মূল্যে বিনিয়োগকারিরা শেয়ার ক্রয় করে থাকে তাকে কাট অফ প্রাইজ বলে।

সাবস্ক্রিপশন ও লটারি

  • ব্যাংকের মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা শুরু করতে হবে
  • ইস্যু ম্যানাজার ও আইপিও পরবর্তী ইস্যু ম্যানাজারের সাহায্যে সাবস্ক্রিপশন, লটারি ও রি-ফান্ড সম্পর্কিত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে হবে।
  • সাবস্ক্রিপশনের জন্য নির্ধারিত সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর এর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে BSEC এবং এক্সচেঞ্জকে অবহত করতে হবে

 এলোট্মেন্ট ও রিফান্ড

  • সাবস্ক্রিপশন এবং লটারির ফলাফল প্রকাশ
  • যারা আইপিও লটারির মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদেরকে সাবস্ক্রিপশন লেটার এবং যারা মনোনীত হননি তাদেরকে রিফান্ড এর ব্যবস্থা করতে হবে
  • সাবস্ক্রিপশন লেটার প্রদান এবং রিফান্ড সম্পন্ন হবার পর BSEC এবং এক্সচেঞ্জে এর সার্বিক অবস্থা জানিয়ে রিপোর্ট প্রদান

তালিকাভুক্তি

  • সাবস্ক্রিপশন লেটার প্রদান এবং রিফান্ড সম্পন্ন হবার পর কোম্পানি কর্তৃক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়
  • এই পর্যায়েএক্সচেঞ্জ বিবেচনা করে তালিকাভুক্তির আবেদন মঞ্জুর বা খারিজ করতে পারে

শেয়ার বিক্রয়

  • তালিকাভুক্তির পর কোম্পানি এলোট্মেন্ট অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রয় করতে পারে

শেয়ার লেনদেন

  • CDBL শেয়ার বিক্রয়ের নিশ্চয়তা দেয়ার পর, এক্সচেঞ্জ উক্ত শেয়ারের লেন্দেন আরম্ভের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে

আমরা এতক্ষ্ণ আইপিও এর মাধ্যমে শেয়ার বাজারে তালিকাভিক্তির উপায় বিস্তারিত জানলাম। তবে শেয়ার বাজারে তালিকাভিক্তির আর একটি প্রচলিত মাধ্যম হলো ডিরেক্ট লিস্টিং (Direct Listing) প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই পদ্ধতিতে তালিকাবুক্তি করে থাকে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply