Know before selling shares - Blog banner

শেয়ার বিক্রয়ের পূর্বে যে বিষয়গুলো জানা দরকার

AvatarPosted by

শেয়ারে বিনিয়োগ হতে মূলধণী আয় সাধারণত দুইটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে । সঠিক সময়ে শেয়ার ক্রয় করা এবং সঠিক সময়ে শেয়ার বিক্রয় করা। একটি সন্তুষ্টজনক মুনাফা লাভের জন্য শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় উভয়ই যথাযথভাবে সম্পাদন করতে হবে। কারণ যেকোনো বিনিয়োগের রিটার্ন প্রথমত বিনিয়োগটির ক্রয়মূল্যের উপর নির্ভর করে।

শেয়ার বাজারে, ভুল সময়ে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য  আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আবার সঠিক সময়ে শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মুনাফা লাভ করতে পারেন। শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনি যদি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েও থাকেন তারপরও শেয়ার বিক্রয়ের  সিদ্ধান্তটি যথাযথ গুরুত্ব ও সতর্কতার সাথে গ্রহণ করতে হবে। শেয়ার ক্রয় করার পর আপনার শেয়ার বিষয়ক ভয়গুলো লোভে পরিণত হতে পারে। যার ফলে আপনি সঠিক সময়ে শেয়ার বিক্রয়ের পরিবর্তে শেয়ার ধরে রাখার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং এতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন, শেয়ার বিক্রয়ের সঠিক সময়ে কোনটি?

শেয়ার বিক্রয়ের সঠিক সময়ে আপনি কোন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছেন, সেই স্টক কে ঘিরে কি ঘটনা ঘটছে, আপনার ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। শেয়ার বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত।

শেয়ার বিক্রয়ের পূর্বে যে গুলো বিষয় বিবেচনা করা উচিত

শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনার একান্ত অনুভুতির উপর নির্ভর না করে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো দ্বারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করুন।

 পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম এমন ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা

শেয়ারে বিনিয়োগ বলতে আপনার কষ্টে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের উদ্দ্যেশে বর্তমানে কোন শেয়ার ক্রয় করে পরবর্তীতে তা যখন আরও লাভে বিক্রয় করাকে বোঝায়। কোন ব্যক্তিই এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে জেতে চান না যখন তার সম্পদের মূল্য হ্রাস পাচ্ছে। যখনই কোন শেয়ারের মূল্য হ্রাস পায় তা বিনিয়োগকারীর মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করে, যা শেয়ার বাজারে ক্ষতির একটি অন্যতম কারণ। তবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া মানেই যে আর পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয় এমনটা নিশ্চিত নয়।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বেশ ভালভাবেই জানেন যে শেয়ার বাজারে মন্দার সৃষ্টি হতে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে পর এ অবস্থার উন্নতিও হয়। তবে কখন বাজারে মন্দার সৃষ্টি হবে এবং কখন হবে না তা আগে থেকে অনুমান করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। সব শেয়ারের মূল্যই এক পর্যায়ে হ্রাস পায়, এমনকি যেসকল শেয়ার প্রবৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে যায় এবং সামগ্রিকভাবে বাজার মাত্রাকেও অতিক্রম করে ফেলে সেসকল শেয়ারও। যেটা আশার কথা তা হল শেয়ারের এই মন্দার পর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পায়।

আপনার শেয়ারের এই মন্দা পরিস্থিতিটি স্বল্পমেয়াদী নাকি দীর্ঘমেয়াদী তা নির্ণয় করার জন্য আপনার শেয়ারের বিগত ৩ মাসের ট্রেডিং চার্ট পর্যবেক্ষণ করুন। এর মাধ্যমে আপনি গত তিন মাসে আপনার শেয়ারের মূল্যের হ্রাস, বৃদ্ধি ও স্থির থাকার প্রবণতার একটি ট্রেন্ড দেখতে পাবেন। এই দীর্ঘ সময়ে যদি স্টকের প্রবণতা নিম্নমুখী হয়ে থাকে, তবে তা একটি দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতে বেপরোয়া হয়ে শেয়ারে বিনিয়োগ করা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

অপর দিকে, যদি একটি সাম্প্রতিক মুনাফা লাভের পর শেয়ারের মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল বলে মনে হয়, তবে শেয়ারটি যতক্ষণ প্রাথমিকভাবে সম্ভাবনাময় থাকে ততক্ষণ শেয়ারটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে।

মূলত, আপনি শেয়ার ক্রয়ের পর যদি শেয়ারের মূল্য হ্রাস পায় এবং আপনি নিজেকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে দেখেন, এক্ষেত্রে আপনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে শেয়ার বিক্রয় করা।

তবে বড় আকারের কোন পরিবর্তন (বিক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া, ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া, শেয়ারের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি) না হলে আপনার আসন্ন ক্ষতিটি স্বল্পমেয়াদী হওয়ার এবং ক্ষতিটি পুনরুদ্ধার করতে পারার সম্ভাবনা বেশি।

স্টকটি এখনও আপনার বিনিয়োগ কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা

অধিকাংশ বিনিয়োগকারী একটি কঠোর বিনিয়োগ কৌশল অবলম্বন করেন যা তাদের কখন শেয়ার ক্রয় করতে হবে এবং কখন বিক্রয় করতে হবে তার নির্দেশনা দেয়। এর মধ্যে অন্যতমগুলো হলঃ

প্রবৃদ্ধিঃ

এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কেবলমাত্র তখনই শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহী থাকেন যখন এতে প্রবৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায় এবং এথেকে উচ্চ হারে মুনাফা লাভের সম্ভাবনা থাকে। এসকল বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির রাজস্ব, আয় ও শেয়ারের মূল্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন যা সামগ্রিকভাবে বাজারে একটি আশানুরুপ পারফর্মেন্স দিতে পারবে।

মূল্যঃ

এরূপ বিনিয়োগকারীরা সেসকল শেয়ার খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন যেগুলো তাদের বাজার মূল্যায়নের চেয়ে কম মূল্যে লেনদেন সম্পাদন করছে। এ উদ্দেশ্যে বিনিয়োগকারীরা একাধিক মেট্রিক্সের মধ্য থেকে মূল্য-আয় অনুপাত (P/E ratio) ব্যবহার করে থাকে যা তাদের স্টকটির মূল্য ও সামগ্রিক শিল্পখাতের মধ্যে তুলনা করতে সাহায্য করে। এর মূল লক্ষ্য হল যতক্ষণ না শেয়ারটির মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে ততোক্ষণ ধরে রাখা এবং পরবর্তীতে মুনাফা লাভের জন্য বিক্রয় করা।

আয়ঃ

আয়ের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা বাজারের স্থিতিশীল স্টকগুলোর সন্ধান করেন যেগুলো ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও এই স্টকগুলোকে শিল্পখাতের গড় হারের তুলনায় অধিক হারে লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে।

তবে উপরের কৌশলগুলোর যেকোনোটি ব্যবহারের পূর্বে

খেয়াল রাখতে হবে যে, আজকের দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শেয়ারটি আগামী দিনে একই মাত্রায় আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। সময়ের সাথে সকল শেয়ারেরই চাহিদা এবং বাজার মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। যদি আপনার ক্রয়কৃত শেয়ারটি আপনার বর্তমান বিনিয়োগ কৌশলের সাথে খাপ খাচ্ছে না তবে শেয়ারটি বিক্রয় করার এটাই উপযুক্ত সময়।

শেয়ারের মূল্যে প্রভাব ফেলে এরূপ কোন ঘটনা বা ক্যাটালিস্টের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা

যেসকল ঘটনা শেয়ারের মূল্যকে ঊর্ধ্বমুখীতা বা নিম্নমুখীতার দিকে নিয়ে যায় সেসকল ঘটনাকে ক্যাটালিস্ট বলা হয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়ের প্রতিবেদন, নতুন পণ্যের উদ্বোধন, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটালিস্ট হিসেবে বিবেচিত। যদিও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনগুলো কোম্পানির আভ্যন্তরীণ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সীমিত রাখা হয়, তবুও বাজারে নতুন পণ্যের আগমন আগে থেকে অনুমান করা যায় এবং আয় প্রতিবেদেনের ও একটি নির্দিষ্ট সময়ে থাকে। একটু লক্ষ্য রাখলেই কোন আর্থিক প্রতিবেদনটি কখন প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে তার একটি পূর্বাভাস পাওয়া যায়। এছাড়াও, দৈনিক খবর, নিউজ মিডিয়া, ফিনান্সিয়াল ম্যাগাজিন ইত্যাদি আপনাকে আসন্ন ক্যাটালিস্ট সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

বাজার পরিস্থিতি শেয়ার বিক্রয় করাকে সমর্থন করে কিনা

বিশেষজ্ঞদের মতে আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শেয়ার বাজারের অবস্থা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। শেয়ার বাজার সম্পর্কিত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীরা বাজারের ঊর্ধ্বমুখী এবং নিম্নমুখী প্রবণতা অথবা অর্থনীতির ইতিবাচক বা নেতিবাচক অবস্থা ইত্যাদি নির্ণয় করে থাকেন। স্টক বিক্রয় করার উপযুক্ত সময় নির্ণয় করার জন্য বাজারের অবস্থা বিবেচনা করা এবং ঐ মুহূর্তে শেয়ার ধরে রাখা যথাযথ সিদ্ধান্ত হবে কিনা তা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা যা বিবেচনা করে থাকেনঃ

  • ইতিবাচক অবস্থাঃ এ সময়ে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এটি ঝুঁকি গ্রহণ করার জন্য একটি উপযুক্ত সময় কারণ এ সময় যথাযথ মুনাফা লাভ করার সুযোগ থাকে। এসময় দক্ষতার সাথে পরিচালিত স্মল-ক্যাপ স্টকগুলোতে বিনিয়োগ করা উত্তম।
  • মধ্যম অবস্থাঃ এসময় বাজার ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী থাকে না বরং বাজারে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে আপনার উচ্চ- ঝুঁকির শেয়ারগুলো পরিহার করা চেষ্টা করা উচিত কারণ বাজার নিম্নমুখী রূপ নিলে তাতে ক্ষতি সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এটি স্থির আয়ের শেয়ারে বিনিয়োগ করার জন্য একটি উপযুক্ত সময়।
  • নেতিবাচক অবস্থাঃ অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে শেয়ারের সংখ্যা হ্রাস পায়, কাজের অভাব দেখা দেয় এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় আপনার এমন কিছু বিনিয়োগের অনুসন্ধান করা উচিত যেগুলো আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এভাবে অর্থনৈতিক মন্দার শেষ পর্যায়ে অল্প পরিসরে মুনাফা লাভ করার সম্ভাবনা থাকে।

যখন আপনার পোর্টফলিওটি পুনরায় মূল্যায়ন করার সময় এবং শেয়ার বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় অর্থনীতি এবং বাজারের অবস্থা অবশ্যই বিবেচনা করুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি আপনার আয়ের ভিত্তিতে ক্রয়কৃত শেয়ারটি বিক্রয় করে প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করতে চান কিন্তু বাজার বিশ্লেষণ বাজারের মধ্যম অবস্থাকে নির্দেশ করে তবে এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে। কারণ বাজার যখন মধ্যম অবস্থায় থাকে তখন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম থাকে এবং আয়ের শেয়ারগুলো আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অন্যত্র কোন ভালো সুযোগ রয়েছে কিনা

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুযোগ ব্যয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা চাকরি ক্ষেত্রেই হোক আর শেয়ারে বিনিয়োগ। সুযোগ ব্যয় বলতে সাধারণত সেই আয়ের পরিমাণকে বোঝায় যা আপনার পক্ষে উপার্জন করা সম্ভব হত যদি না আপনি অন্যত্র বিনিয়োগ করতেন। উভয় বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয়ের ব্যবধানই হল সুযোগ ব্যয়। তাই প্রতি তিন মাস অন্তর আপনার পোর্টফলিওটি পুনরায় মূল্যায়ন করার সময় আপনার ক্রয়কৃত শেয়ারের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা উচিত। একই সময় শেয়ার বাজারে বর্তমানে কোন শেয়ারগুলো সবথেকে লাভজনক অবস্থায় আছে সে সম্পর্কে ধারণা রাখুন। যদি আপনি এমন কোন শেয়ারের সন্ধান পেয়ে থাকেন যা হতে আপনার বর্তমান বিনিয়োগগুলোর তুলনায় অধিক মুনাফা লাভের সুযোগ রয়েছে, তবে আপনার ক্রয়কৃত শেয়ারটি বিক্রয় করে উপরুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করা একটি যথাযথ সিধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

আপনার নগদ অর্থের প্রয়োজন আছে কিনা

যদি আপনার জরুরিভাবে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয় তবে আপনার বিনিয়োজিত শেয়ার এক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। তবে শেয়ারের বিক্রয়ে জন্য আপনার পোর্টফলিও পুনরায় মূল্যায়নের পূর্বে অবশ্যই আপনার নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুতর তা ভালোভাবে যাচাই করুন। কারণ চক্রবৃদ্ধিতে আপনার বিনিয়োগ হতে আয়ের পরিমাণ তাৎক্ষনিক নগদ অর্থের পরিমাণর তুলনায় বেশি।

আপনি আপনার পোর্টফলিওটি পুনরায় মূল্যায়ন করতে আগ্রহী কিনা

একাধিক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত একটি পোর্টফলিও এর ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগকারীদের জন্য যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ কাজ। কিছু বিনিয়োগকারী এরূপ শেয়ারগুলো এক পর্যায়ে তাদের পোর্টফলিও থেকে বাদ দিয়ে দেন কারণ ক্রমবর্ধমান এই পোর্টফলিও সঠিকভাবে পরিচালন করার জন্য তারা সময় পান না। আপনিও যদি সময়ের স্বল্পতার শিকার হয়ে থাকেন তবে একাধিক শেয়ারে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (EFT), ইনডেক্স ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। এই ফান্ডগুলো বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করে একাধিক শেয়ার ও সিকিউরিটি সংবলিত পোর্টফলিও তৈরি করে এবং তা পরিচালনা করে থাকে। আপনার ক্রয়ক্রিত শেয়ার বিক্রয় করে এরূপ ফান্ডে বিনিয়োগ করার কিছু অন্যতম সুবিধা হলঃ

  • সময়ের সাশ্রয়ঃ এই ফান্ডগুলো স্বল্প মূলধনের একাধিক সম্পদে বিনিয়োগ করে একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফলিও তৈরি করে। এটি আপনার বিনিয়োগ বিশ্লেষণের সময়কে ব্যাপকভাবে হ্রাস করে যা আপনাকে অন্যান্য বিষয়ে মনোনিবেশ করার সময় দেয়।
  • নিয়ন্ত্রণঃ ফান্ডটি কর্তৃক বিনিয়োজিত সকল সম্পদের পরিচালনা ফান্ডটি নিজেই করে থাকে। তবে ফান্ডটি কোন বিনিয়োগ কৌশল অবলম্বন করবে তা বিনিয়োগকারীর উপর নির্ভর করে। তাই বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ কৌশলটি নির্ধারণ করা ছাড়া আপনাকে অন্য কোন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পাদন করার প্রয়োজন হয় না।
  • স্বল্পব্যয়ঃ নিজস্ব পোর্টফলিও পরিচালনা করা একটি ব্যয়বহুল কাজ। কিছু ট্রেডিং কার্যক্রম লাইসেন্স ফি ধার্য করে আবার কিছু ব্রোকার আপনার প্রতিটি লেনদেনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফি চার্জ করে থাকে। অপরদিকে, ফান্ডে বিনিয়োগ করা হলে কেবল মাত্র ফান্ডটির ব্যয়ের অনুপাতে ফি ধার্য করা হয়। এর ফলে আপনার বিনিয়োগের খরচের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং আপনি কম খরচে সর্বোত্তম পারফর্মেন্সের ফান্ডটি নির্বাচন করার সুযোগ পান।

যদি আপনি আপনার ক্রয়কৃত শেয়ারগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হন তবে শেয়ারগুলো বিক্রয় করে উপরোক্ত ফান্ডগুলো তে বিনিয়োগ করা আপনার জন্য একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।

একজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগ বিশ্লেষকের পরামর্শ গ্রহণ

উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করার পর আপনি আপনার শেয়ারটি বিক্রয় করবেন কিনা সে সম্পর্কে আপনার একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে। আপনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপনার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। তাই আপনার বিনিয়োগ সিদ্ধান্তগুলো নিজে গ্রহণ করার সময় উপরোক্ত ৭টি বিষয় যথাযথভাবে পর্যালোচনা করুন। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনার পর যদি আপনি আপনার শেয়ার বিক্রয় করবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে থাকেন তবে একজন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

 

শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয় একজন বিনিয়োগকারীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটি একজন ব্যক্তির আর্থিক অবস্থায় ব্যপকভাবে প্রভাব ফেলে। একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে একজন বিনিয়োগকারী যেমন তার সকল সঞ্চয় হারাতে পারেন তেমনি যথা সময়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে প্রচুর লাভবান হতে পারেন। শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রহনের পূর্বে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে আপনার আর্থিক অবস্থায় তার প্রভাব কি হবে তা নির্ণয় করা জরুরি। উপরোক্ত বিষয় বিবেচনার মাধ্যমে আপনি আপনার শেয়ার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যা আপনার আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে।

 

পড়ুন – স্টকে বিনিয়োগের পূর্বে যে বিষয়গুলো জানা দরকার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply