শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন? বেশ ভালো কথা। কিন্ত আপনার জানা উচিৎ শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।  সঠিক জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা না থাকলে প্রথম ইনভেস্টমেন্টেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যেতে পারেন।

অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় স্টক মার্কেট এখন স্থিতিশীল আর বিনিয়োগকারী দের ভীড়ও বেশী। আপনি যদি এখানে একদম ই নতুন হন তবে বিনিয়োগের আগে আপনার উচিৎ শেয়ার বাজারের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারনা রাখা৷ শেয়ার বাজার কি এবং কিভাবে কাজ করে এই বিষয়গুলো জানার জন্য শেয়ার বাজার সম্পর্কিত কিছু রেশিও আপনার জানা দরকার।

শেয়ার বাজারের কোন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা আপনার জন্য লাভজনক হবে, কোন কোম্পানি কতটুক লভ্যাংশ আপনার সাথে ভাগ করবে, বছর ঘুরে কোনো কোম্পানি কিভাবে আপনাকে বোনাস বা ডিভিডেন্ড প্রদান করবে, কোন কোম্পানির স্টক কিনলে আপনি সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকবেন এরকম বিষিয়গুলো নিশ্চিত হবার জন্য বেশ কিছু রেশিও সম্পর্কে আমরা এখানে আলোচনা করবো।

রেশিও কি ?

শেয়ার বাজারে সফল বিনিয়োগ এর জন্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ জানা জরুরী। কেননা এর মাধ্যমেই একটা কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা জানা যায়। কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে এর ফিন্যান্সিয়াল রেশিও গুলোর দিকে খেয়াল রাখা দরকার।

রেশিও বলতে কোনো কোম্পানির আর্থিক বিষয়বস্তু সম্পর্কিত বিভিন্ন সংখ্যাগত তথ্যের আপেক্ষিক আনুপাত। একটা কোম্পানির বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এসব অনুপাত বের করা হয়। আর্থিক বিনিয়োগ ব্যবস্থায় এরকম অনেক প্রকার রেশিও রয়েছে যেগুলো ওই নির্দিষ্ট কোম্পানির পারফর্মেন্স সম্পর্কে ধারনা দেয়।

বুঝতে কঠিন লাগলো? ধরুন আপনি বিনিয়োগ এর ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত। ভাবছেন কোন কোম্পানির শেয়ার কিনলে সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকবেন। এক্ষেত্রে, ঝুঁকি পরিমান নির্ণয়ে পি/ই রেশিও আপনাকে সাহায্য করবে৷ শেয়ারে মূল্য আয় রেশিও যতো কম হয় ততো আপনার বিনিয়োগ ঝুঁকি কম হয়ে যায়।

যেসব কোম্পানি শেয়ার মার্কেটে তালিকাভুক্ত থাকে তাদের অধিকাংশ আর্থিক ডাটা সমূহ পাবলিক করা থাকে। এসব ডাটার পারস্পরিক তুলনা করে বিভিন্ন রেশিও নির্ধারণ করা যায়। আর খুব সহজেই এসব রেশিও থেকে সেই কোম্পানি আর আপনার বিনিয়োগ এর ভবিষ্যত সম্পর্কে অনেকটা জানা হয়ে যায়।

রেশিও জানার প্রয়োজনীয়তা

রেশিও বা অনুপাত এর নাম শুনলেও হাই স্কুল বা কলেজের ম্যাথ এর জটিল ইক্যুয়েশান আর হিসাব নিকাশ চোখের সামনে ভেসে উঠে৷ ফিন্যান্সিয়াল রেশিও টার্ম যে কাউকে হুট করে বিভ্রান্ত করে দেবার জন্য যথেষ্ট। কিন্ত যখন ব্যাপার টা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আর আপনি বিনিয়োগে আগ্রহী তখন আপনাকে জানতেই হবে রেশিও আপনার কেনো আত্মস্থ করা দরকার।

. কোম্পানি সম্পর্কে ধারনা

যে কোম্পানি শেয়ার আপনি ক্রয় করতে যাচ্ছেন শেয়ার বাজারের আপনার সফলতা বা ব্যার্থতা এক প্রকার পুরোটাই সেই কোম্পানির কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। কি পরিমান ক্যাপিটাল বা দেনা সেই কোম্পানির আছে সেটা জানা যেমন জরুরী সেই সাথে সেই কোম্পানির কি পরিমাণ সক্ষমতা রয়েছে আপনার ইনভেস্টমেন্ট ক্যারিয়ার কে তুলে ধরার, সেটাও জানা সমান জরুরী। ফিন্যান্সিয়াল রেশিও সম্পর্কে ভালো জ্ঞান আপনাকে এই বিষয়ে সহায়তা করবে।

. ডিভিডেন্ড এবং সফলতার সাতকাহন

কোন কোম্পানি বছর ঘুরে আপনাকে আপনার এক্সপেক্টেড ডিভিডেন্ড দিতে পারবে সেটা জানার জন্য আপনার ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড রেশিও জানা দরকার। একদম ই প্রাথমিক ধারনার একটা এটি।

কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ এর ধারনা পেতে হলে শেয়ার প্রতি মূল্যের সাথে সাথে সেই কোম্পানি শেয়ার প্রতি কত লাভ বা ডিভিডেন্ড দেয় সেটা ব্যাবহার করে ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড পাওয়া যায়।

. প্রাইস টু বুক ভ্যালু এবং কোম্পানির ইতিবৃত্ত

একটা কোম্পানি শেয়ার মার্কেটে কেমন করছে, তার দায় কেমন এবং তার দায় শোধ করার সক্ষমতা কতোটুকু এসব না জানলে প্রথম ইনভেস্টেই ক্ষতির মুখ দেখতে হয়। কোম্পানির বুক ভ্যালু কেমন সেই সাথে তার সমস্ত দায় শোধ করার সক্ষমতা পরিমাপ করতে হলে আপনাকে এরকম রেশিওগুলো জানতে হবে।

এছাড়াও পি/ই রেশিও, ইপিএস এসব বিষয় আপনাকে জানাবে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার এর বাজার মূল্য এবং কোম্পানি এর থেকে শেয়ার প্রতি কতো আয় করছে। বুঝতেই পারছেন, যদি এসব রেশিও না জানেন তো আপনি পুরোটাই অন্ধকারে থেকে যাচ্ছেন।

. জ্ঞানই শক্তি

শেয়ার বাজারে এমন অনেককেই  খুঁজে পাওয়া যাবে যারা দিকভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করে, শেয়ার বাজার সম্পর্কে সম্যক ধারনা নেই অথচ যথেষ্ট ক্যাপিটাল আছে। কোনো শেয়ারের দাম হুট করে কমে গেলে সেগুলো কিনে ফেলা আর ক্রয়কৃত শেয়ারমুল্য কিছুটা বেড়ে গেলে বিক্রি করে দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

কিন্ত শুধু মাত্র এটুকু জ্ঞান নিয়ে শেয়ারবাজারে বড়সড়ো ক্ষতি সময়ের ব্যাপার মাত্র।সুতরাং, ফিন্যান্সিয়াল রেশিও জানা খুবই প্রয়োজন । এগুলো সম্পর্কে আমরা নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

ফিন্যান্সিয়াল রেশিওর প্রকারভেদ

শেয়ার মার্কেটে বেশ কিছু রেশিও এর ধারণা রয়েছে। অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল  রেশিও এর বাইরে শুধু মাত্র শেয়ার মার্কেটে প্রচলিত এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এমন ৬ টি রেশিও নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।

. পি/ রেশিও (P/E Ration)

পি/ই রেশিও বা উপার্জনের মূল্য অনুপাত কে ব্যাবহারিক অর্থে বলা যায় লাভের গুনিতক সাধারণত প্রতিটি শেয়ার এর মূল্য এবং এর বিপরীতে কি পরিমান আয় করে তার অনুপাত কে পি/ই রেশিও বলা যায়। পি/ই রেশিও দ্বারা একটা শেয়ারের মূল্য মান নির্ণয় করা যায়। কিভাবে?

পি/ই রেশিও বা প্রাইস আর্নিং রেশিও বের করতে হলে কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য কে ওই কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় দিয়ে ভাগ করতে হয়। অর্থাৎ,

PE Ratio Formula

ধরা যাক একটি কোম্পানির শেয়ার এর বর্তমান বাজার মূল্য ৬০ ডলার। আর সেখান থেকে কোম্পানির বাৎসরিক শেয়ার প্রতি আয় যদি ৪ ডলার হয় তাহলে ওই কোম্পানির পি/ই রেশিও হবে ১৫ ডলার। এখানে যদি শেয়ার প্রতি আয় ৫ ডলার হতো তাহলে পি ই রেশিও দাড়াতো ১২ ডলারে।

শেয়ারবাজারে এরকম ধারনা প্রচলিত আছে, যে শেয়ারের পি/ই রেশিও যতো কম সেই শেয়ার এ বিনিয়োগ ঝুঁকি ততো কম। যদিও বর্তমান শেয়ার বাজারে এই উক্তিটি পুরোপুর সঠিক নয়। তবুও পি/ই রেশিও দ্বারা সেই কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে একটি মোটামুটি ধারনা পাওয়া যায়।

. ইপিএস (Earning Per Share)

ইপিএস (EPS ) কথার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে Earning per share বা শেয়ার প্রতি আয়। কোনো কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ লাভ করে তাকে মার্কেটের মোট শেয়ার দ্বারা ভাগ করে দিলে যা পাওয়া যায় তাই হলো সহজ কথায় ইপিএস। ইপিএস একটি আর্থিক অনুপাত, যা কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের লাভজনকতা নির্দেশ করে।

আরেকটু ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যাক। ধরুন কোনো কোম্পানি ‘ক’ এর ইপিএস হচ্ছে ১০ ডলার। এর অর্থ দাঁড়ায় সে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লাভ হয়েছে ১০ ডলার।

শেয়ার প্রতি আয় নিচের  উপায়ে গণনা করা যেতে পারে:

EPS

অর্থাৎ সকল কর আর খরচ পরিশোধের পর একটি কোম্পানির মোট আয় কে ওই কোম্পানির সহজলভ্য শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে সেই কোম্পানির শেয়ার প্রতি মুল্য বের হয়ে আসবে।

ধরুন, কোনো কোম্পানি শেয়ার হোল্ডারদের বাৎসরিক ডিভিডেন্ড দেয়ার পরও তাদের নেট আয় থাকে ১ কোটি টাকা৷ আয়ের বিপরীতে সেই কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা হলো ৩০০০০০ তাহলে সেই কোম্পানির ইপিএস হবে, ১,০০০,০০০/৩০০০০০= ৩.৩৩টাকা। অর্থাৎ সেই কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হচ্ছে ৩.৩৩টাকা।ইপিএস কোনো কোম্পানি শেয়ার প্রতি আদৌ কোনো লাভ করছে কিনা, তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নির্দেশ করে।

. ডি রেশিও (Debt Equity Ratio)

ডেবট ইক্যুইটি রেশিও দ্বারা একটা কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা মুল্যায়ন সম্ভব। এটি কোম্পানির মোট দায় এবং বিনিয়োগকারীদের মোট ইক্যুইটির রেশিও কে নির্দেশ করে। কর্পোরেট এলাকায় যদি আপনি বিনিয়োগ করে টিকে থাকতে চান তবে বিভিন্ন কোম্পানি সম্পর্কে যে কয়টি বিষয় সব সময় আপনার মনে রাখা উচিৎ ডি/ই রেশিও তার মধ্যে একটা। একটা কোম্পানির ডি/ই রেশিওর  মাধ্যমে আপনি ধারনা পাবেন সেই কোম্পানির শেয়ার কেনা কতোটা লাভজনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কিনা।

DE Ratio

ধরা যাক, একটি কোম্পানি XYZ এর শর্ট  টার্ম ও লং টার্ম লোন মিলিয়ে মোট দায় আছে ৩১ কোটি টাকা। অন্য দিকে শেয়ার হোল্ডার দের থেকে প্রাপ্ত ইক্যুইটির পরিমান ১৩৩ কোটি টাকা। তাহলে ডি/ই রেশিও হবে ০.২৩ টাকা যেটা শেয়ার বাজার এর বর্তমান অবস্থা সাপেক্ষে যুক্তিযুক্ত।

তাহলে ডি/ই রেশিও দিয়ে আপনি কিভাবে উপকৃত হচ্ছেন? বুঝতে পারছেন না এখনো? যেহেতু এটি কোম্পানির দায় আর মোট ইক্যুইটির অনুপাত কম সেহেতু ডি/ই রেশিও সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে আপনার ঝুঁকি বেশী। কারণ সেই কোম্পানির দায় বেশী থাকছে আর যেকোনো মূহুর্তে হয়তো কোম্পানি দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে। তাই কম ডি/ই রেশিও সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনলে ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়।

. ডিভিডেন্ড ইল্ড (Dividend Yield)

একটি কোম্পানি থেকে শেয়ার হোল্ডাররা বাৎসরিক বা ত্রৈমাসিক ডিভিডেন্ড পেয়ে থাকেন। সেটা কোম্পানির মোট আয় এর একটা অংশ। শেয়ারহোল্ডার দের বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে বছর ঘুরে কোম্পানি যে লাভ করে সেটার কিছু অংশ কোম্পানি শেয়ার করে। এটাকে আমরা শুধু ডিভিডেন্ড বলে থাকি। এটা একটা টাকার সংখ্যা। কিন্ত ডিভিডেন্ড ইয়াল্ড  বলে একটি টার্ম আছে যার মাধ্যমে আপনি কোন শেয়ার থেকে কেমন আয় করতে পারবেন সেটার ধারনা পাওয়া যায়।আগে আসি কিভাবে  উৎপাদন লভ্যাংশ  হিসাব করে। খুব সহজ হিসাব!

Dividend Yield

ডিভিডেন্ড ইল্ড রেশিও যখন বেশী থাকবে বুঝতে হবে  কোম্পানি বেশ ভালো করছে। আপনি বেশী ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন অল্প দামে শেয়ার কিনেই।

এবার আরেকটু পরিষ্কার করে বলা যাক! ধরুন আপনি ৫ হাজার টাকার একটি শেয়ার কিনে সেখান থেকে বছর ঘুরে ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন ৪০ টাকা। অপর দিকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি স্টক কিনে বছরে পাচ্ছেন ৬০ টাকা।

যদিও দ্বিতীয় স্টক এ ডিভিডেন্ড বেশী পাচ্ছেন কিন্ত আপনি চাইলেই ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের দুইটি স্টক কিনে দ্বিতীয় টির চেয়ে বেশী রিটার্ন পেতে পারেন। তবে সবসময় কম ডিভিডেন্ড রেশিও দেখেই ঘাবরে যাওয়া বা হতাশ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। এমন হতে পারে কোম্পানি তাদের লভ্যাংশ পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি পরবর্তীতে অধিক লাভবান হতে পারেন।

. প্রাইস টু বুক ভ্যালু রেশিও (P/BV)

প্রাইস টু বুক ভ্যালু রেশিও স্টক মার্কেটে বেশ প্রচলিত এবং বহুল ব্যাবহৃত একটি ফিন্যান্সিয়াল রেশিও। একটি কোম্পানি তার সকল সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে দায় শোধ করার পর যেটুকু অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেই অবশিষ্ট অর্থ হচ্ছে কোম্পানির বুক ভ্যালু । আর  পিবিভি ভ্যালু রেশিও হচ্ছে কোনো কোম্পানির মার্কেট প্রাইস আর তার এই বুক ভ্যালুর অনুপাত।

Price to Book Value

ধরা যাক কোনো একটি কোম্পানির মার্কেট প্রাইস ৩০ কোটি টাকা আর বুক ভ্যালু ৩৬ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে এর পিবিভি রেশিও দাঁড়াবে ০.৮৩। এই রেশিও যখন ১ এর কম হয়ে যায় তখন বুঝতে হবে কোম্পানি অবমূল্যায়িত হয়েছে৷ অর্থাৎ মার্কেট প্রাইস এর তুলনায় কোম্পানির বুক ভ্যালু বেশী এবং এর সর্বমোট সম্পদ, লিক্যুইড অর্থ, ব্যাংক ব্যালেন্স এর তুলনায় বাজার মূল্য কম নির্ধারিত হয়েছে।

. ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল রেশিও ( Working Capital Ratio)

ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল রেশিও হচ্ছে একটি কোম্পানির বর্তমান মোট সম্পদের বিপরীতে তার দায় পরিশোধ করার ক্ষমতা। ধরুন আপনি বিনিয়োগকারী হিসেবে জানতে ইচ্ছুক একটি কোম্পানির কি পরিমান লিক্যুইড অর্থ বা সম্পদ আছে যার দ্বারা কোম্পানি তার ঋণ বা দায় শোধ করার ক্ষমতা রাখে। এই হিসাব সাধারণত এক বছরের মধ্যে করা হয়।

অর্থাৎ, এই রেশিও হিসাব করতে হবে এভাবেঃ

Warking Capital Ratio

একটা কোম্পানি XYZ এর বর্তমান  মোট সম্পদ ১০০ কোটি টাকার বিপরীতে বর্তমান দায় আছে ৫০ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে এর রেশিও হবে ২:১।  স্টক বাজারে এটাকে বেশ ভালো অবস্থান হিসেবে ধরা যায়৷ আবার আরেকটি কোম্পানির ও একই রেশিও থাকতে পারে। দুইটি কোম্পানি একই WC Ratio সম্পন্ন অর্থ এই নয় যে তারা একই প্রকার সম্পদ এর মালিক বা তাদের দায় ও একই। বরং আপনি শুধু কোম্পানির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটি বাস্তবিক অনুমান করতে পারেন৷

শেষ কথা

ফিন্যান্সিয়াল রেশিও গুলো বিশ্লেষণ করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে বিশেষ কোনো উচ্চতর ডিগ্রীর দরকার হয় না। একটু ভালোমতো রিসার্স আর উপরের দেয়া রেশিওর সূত্রগুলো ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে পারলেই ফিন্যান্সিয়াল রেশিও গুলো আয়ত্তে রাখা সম্ভব।

বেশী উৎপাদন লভ্যাংশ রেশিও,কম পি/ই রেশিও, রিজনেবল পিবিভি রেশিও ইত্যাদি বিষয় শেয়ারবাজারে আপনার সফলতার চাবি হতে পারে।  যেসব কোম্পানি স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত,  সেসব কোম্পানির অধিকাংশ আর্থিক তথ্যাদি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত করা থাকে।

এছাড়াও বাৎসরিক ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট, দেনার তালিকায় এসব রেশিও সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি থাকে। সফল বিনিয়োগকারী হতে চাইলে একজন দক্ষ ফিন্যান্সিয়াল রেশিও বিশ্লেষক হবার বিকল্প নেই।