নতুন মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫: পুঁজিবাজারে কী কী পরিবর্তন আসছে?
By admin
নতুন মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫: পুঁজিবাজারে কী কী পরিবর্তন আসছে?
নতুন মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫: পুঁজিবাজারে কী কী পরিবর্তন আসছে?
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) কর্তৃক জারি করা ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ পুঁজিবাজারে মার্জিন অর্থায়ন (Margin Financing) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে । এই বিধিমালাটি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে ৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ।
RCL এর পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এই নতুন বিধিমালা থেকে প্রধান প্রধান পরিবর্তন, এর প্রভাব এবং অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
মূল পরিবর্তন ও প্রভাব (Highlights)
সংরক্ষিতব্য মার্জিন (Maintenance Margin): ন্যূনতম ইক্যুইটি (Equity) মার্জিন অর্থায়নের ৭৫% বা পোর্টফোলিও মূল্য মার্জিন অর্থায়নের ১৭৫% এর কম হবে না ।
মার্জিন তলব (Margin Call): মার্জিন উল্লিখিত ন্যূনতম হারের নিচে নামলে লিখিত, ইমেইল, এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে অবিলম্বে মার্জিন তলব করতে হবে ।
আবশ্যিকভাবে বিক্রয় (Forced Sale): গ্রাহকের ইক্যুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০% বা পোর্টফোলিও মূল্য মার্জিন অর্থায়নের ১৫০% বা তার নিচে নেমে গেলে মার্জিন অর্থায়নকারী কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিকিউরিটিজ অবশ্যই বিক্রয় করবেন ।
নগদ মূলধন সীমা: মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন (Core Capital) বা নিট সম্পদের (Net Worth) ৩ গুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না ।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: বাধ্যতামূলকভাবে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং একটি যোগ্য গবেষণা দল (Research Team) গঠন করতে হবে ।
মার্জিন অর্থায়নের নতুন অনুপাত ও শর্তাবলী
বিধিমালাটি মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও মূল্য ও বাজারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নতুন অনুপাত নির্ধারণ করেছে:
বাজার মূল্য-আয় অনুপাত (Overall Market P/E) > ২০: এই পরিস্থিতিতে মার্জিন অর্থায়ন অনুপাত ১:০.৫ এর বেশি হবে না ।
পোর্টফোলিও মূল্য:
Tk ৫ লক্ষ থেকে < Tk ১০ লক্ষ পর্যন্ত: অনুপাত সর্বোচ্চ ১:০.৫ ।
Tk ১০ লক্ষ বা তার বেশি: অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ ।
লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি: তালিকাভুক্ত লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের জন্য অনুপাত ১:০.২৫ এর বেশি হবে না, তবে হালনাগাদ অ্যাকচুয়ারিয়াল ভেলুয়েশন (actuarial valuation) না থাকলে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না ।
মার্জিন অর্থায়নযোগ্য সিকিউরিটিজ নির্ধারণে কঠোরতা
মার্জিন অর্থায়নযোগ্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে:
যোগ্য ক্যাটাগরি: স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে (Main Board) তালিকাভুক্ত ‘A’ এবং ‘B’ ক্যাটাগরির শেয়ার ব্যতীত অন্য কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না ।
‘B’ ক্যাটাগরি শর্ত: ‘B’ ক্যাটাগরির কোম্পানির বার্ষিক ন্যূনতম ৫% লভ্যাংশ বিতরণ না করলে সেই শেয়ারে মার্জিন দেওয়া যাবে না ।
অযোগ্য প্ল্যাটফর্ম:SME, ATB বা OTC প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না ।
ক্যাটাগরি পরিবর্তনঃ মার্জিন অর্থায়নকৃত ‘A’ এবং ‘B’ ক্যাটাগরির কোনো শেয়ার পরবর্তীতে ‘Z’ ক্যাটাগরিতে রুপান্তরিত হলে, বা ‘B’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোনো কোম্পানি বার্ষিক ন্যূনতম ৫% লভ্যাংশ বিতরণ না করলে, নোটিশ প্রদান করে পরবর্তী ৬০ ট্রেডিং দিনের মধ্যে তা আবশ্যিকভাবে বিক্রয় করে সমন্বয় করতে হবে ।
মুক্ত বাজার মূলধন (Free Float Market Capital): সিকিউরিটির উন্মুক্ত বাজার মূলধন ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা না হলে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না ।
পি/ই (P/E) অনুপাত: পূর্ববর্তী মূল্য-আয় (Trailing P/E) অনুপাত ৩০ (ত্রিশ) এর অধিক হইলে উহাতে কোনো মার্জিন অর্থায়ন করা যাইবে না । তবে মূল্য-আয় অনুপাত ৩০ (ত্রিশ) অথবা খাতভিত্তিক মধ্যম মূল্য-আয় (sectoral median P/E) অনুপাত এর দ্বিগুণ, এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, তার ভিত্তিতে মার্জিন অর্থায়নযোগ্য সিকিউরিটি নির্বাচন করতে হবে ।
নতুন নিষেধাজ্ঞা (Prohibitions)
অযোগ্য গ্রাহক: ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিনী বা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে (উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি/HNI ব্যতীত) মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না । তবে, গৃহিনী বা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি (HNI) তাদের মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে (উল্লেখ্য, ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে HNI সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
বিদ্যমান গ্রাহক: কোনো গ্রাহকের হিসাবে গত ১ বছরের গড় বিনিয়োগ ন্যূনতম ৫ লক্ষ টাকা না থাকলে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না ।
অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা: মার্জিন অর্থায়নকারী তার কোনো পরিচালক বা কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্যকে মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না ।
নিষেধাজ্ঞা: লককৃত (Locked-in), বন্ধকীকৃত বা পরিচালক কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ার মার্জিন হিসেবে জমা রাখা যাবে না ।
এই বিধিমালা পুঁজিবাজারে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিধিমালাটি ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন – মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫