Bitcoins - Digital Currency

বিটকয়েন : ডিজিটাল মুদ্রা কথন

একবার ভাবুন তো ,আপনি লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক কিন্তু সেই টাকা কোন ব্যাংকে রাখা নেই। রাখা আছে ছোট্ট একটি হার্ডড্রাইভে। এই টাকা তুলতে কোন ব্যাংক চেক বইয়ের দরকার হবে না। দরকার হবে একটি ছোট্ট লক পাসওয়ার্ডের। কিন্তু কি হবে যদি এই লক পাসওয়ার্ডটি হারিয়ে যায়? ঠিক এমনি ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার স্যানফ্রানসিস্কোতে। স্টিফেন থমাস নামক এক প্রোগ্রামার তার ডিজিটাল মুদ্রা যাকে বিশ্ব চিনে বিটকয়েন নামে-তার হার্ডড্রাইভের পাসওয়ার্ডটি হারিয়ে ফেলেছেন। তাতে আটকে গেছে তার ৭,০০২টি বিটকয়েন যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলার! বিটকয়েন ব্যবহারকারীদের জন্য এমন ঘটনা নতুন নয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের মতন তৃতীয় বিশ্বের মানুষের কাছে এই শব্দটি নতুন। বলা হচ্ছে সামনে লেনদেনের একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠবে বিটকয়েন বা ডিজিটাল মুদ্রা। তাই পাঠকদের উদ্দেশ্যে এই মুদ্রার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং  বাংলাদেশ ও বিশ্বে এর অবস্থান সম্পর্কে তুলে ধরা হল এই রচনায় ।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েন কি ?

একটা সময় ছিল যখন পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালানোর উপায় আবিষ্কার করে মানুষ। এরপর থেকে সভ্যতা কেবলই সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের জীবন যাপন ক্রমাগতই আধুনিক হতে থাকে। তাই প্রযুক্তির তৈরি আধুনিক মুদ্রা বা ডিজিটাল কয়েন ছিল সময়ের দাবী।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েন হল মূলত এক ধরণের কম্পিউটার ফাইল যা কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ‘ডিজিটাল ওয়ালেট’ নামক অ্যাপ এ সংরক্ষিত থাকে। এই ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে বিটকয়েন আদান প্রদান করা যায়। সর্বপ্রথম ও বহুল ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি হল বিটকয়েন। তাই ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন হিসেবেই বহুল পরিচিত। বিটকয়েনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণ হল এই মুদ্রাটি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় কোন সংস্থা নেই।

Bitcoins - Digital Currency

কি করে সৃষ্টি হল বিটকয়েন?

বিটকয়েন বা প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্ম হয়েছে রহস্যময় ঘটনার মধ্য দিয়ে। ২০০৮ সালের অগাস্ট মাসে চুপিসারে বিটকয়েন.ওয়ারজি নামক একটি ওয়েবসাইট ইন্টারনেট ডোমেইনে তালিকাভুক্ত করা হয়। এর পরপরই বিটকয়েনঃ একটি গোষ্ঠী ভিত্তিক ইলেক্ট্রনিক মুদ্রা ব্যবস্থা শীর্ষক একটি গবেষণা পত্র ক্রিপ্টোগ্রাফি মেইলিং তালিকা অনুযায়ী সকলকে পাঠানো হয়। এই গবেষণা পত্রে লেখকের নামহিসেবে ‘সাকোশী নাকামোতো’ নামক এক ব্যাক্তির নাম ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে বিটকয়েনের স্রষ্টা হিসেবে ও এই ব্যবস্থার সাথে এই জাপানী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পরে। নাকামাতোর ভাষ্য অনুযায়ী তিনি ২০০৭ সাল থেকেই বিটকয়েন তৈরীর কাজ করছেন। তার

নামের কারণে অনেকেই মনে করেন তিনি জাপানের নাগরিক। তবে ধারণা করা হয় নাকামাতো কেবল একজন ব্যক্তির নাম নয়। এই নামের পেছনে রয়েছেন একের অধিক ব্যক্তি।

বিটকয়েনের যাত্রা শুরু

৯ জানুয়ারি,২০০৯ সালে বিটকয়েনের প্রথম ভার্সন ০.০১ বাজারে ছাড়া হয়। এতে এমন একটি প্রোগ্রামিং কোড বসানো হয় যার মাধ্যমে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন  তৈরী করতে পারবে। বিটকয়েনের প্রথম লেনদেন হয় ১২ জানুয়ারি, ২০০৯ সালে। ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর প্রথম সাধারণ মুদ্রার সাথে বিটকয়েন বিনিময়ের একটা মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়-১ ইউএস ডলারের বিনিময়ে ১৩০৯.০৩টি বিটকয়েন।

Bitcoin History

বিটকয়েন মার্কেট নামের একটি ওয়েবসাইটকে বিটকয়েন বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১০ সালে। একই সালে বিটকয়েনের প্যাটেন্ট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রাত্যহিক জীবনে বিটকয়েনের প্রথম ব্যবহার হয় একটি পিজ্জা কেনার জন্য। ফ্লোরিডার একজন প্রোগ্রামার ল্যাজলো হেনায়েজ ১০ হাজার বিটকয়েন দিয়ে একটি পিজ্জা কিনেন।

জনসাধারণের চোখে প্রথম বিটকয়েন

বিটকয়েন সর্বপ্রথম সাধারণ মানুষের আলোচনায় আসে যখন ২০১০ এর জুলাই মাসে বিটকয়েনের বিনিময় মূল্য দশগুণ বেড়ে যায়। তবে এই ঘটনার সাথে সাথে বিটকয়েন চলে আসে সরকারি কতৃপক্ষের নজরদারিতে। ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, ‘দ্যা ফিন্যানশিয়াল টাস্ক ফোর্স’ নামের একটি আন্তঃসরকার প্রতিষ্ঠান যারা মূলত মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসীদের মূলধন যোগানের বিরুদ্ধে নীতি নির্ধারন করে ও কাজ করে, তারা বিটকয়েন সম্পর্কে একটি সতর্ক বার্তা প্রচার করে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিটকয়েন ইউএস ডলারের সমমূল্য পৌঁছে যায় এবং একই বছরের এপ্রিলে এই ডিজিটাল মুদ্রার মূল্য ইউরোর সমমান হয়ে যায়। আরও একটি ঘটনা যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিটকয়েনকে সকলের সামনে নিয়ে আসে সেটি হল উইকিলিকস যখন অনুদান হিসেবে বিটকয়েন গ্রহণ শুরু করে।  ২০১২ সালে বিটকয়েনকে কেন্দ্র করে প্রথম ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়। তবে বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে  থাকে এই নিয়ে সমস্যাও। বিটকয়েন আদানপ্রদানের বিভিন্ন সাইট বিভিন্ন সময়ে হ্যাকিং এর শিকার হয়। যার ফলে অনেকেই তাদের ক্রয়কৃত বিটকয়েন হারিয়ে ফেলে।

বিটকয়েন আইন

  • বিটকয়েনের উপর আইনের প্রথম খড়গটা আসে ২০১২ সালে যখন আমেরিকার সিকিউরিটি ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন এটর্নি প্রথম বিটকয়েনকে পঞ্জি স্কিম পরিচালনার একটি মাধ্যম হিসেবে অভিযোগ আনেন এবং বিটকয়েন সেভিংস এবং ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আইনি অনুসন্ধানের ঘোষণা দেন। এর পরপরই বিটকয়েন ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। এই ফাউন্ডেশনের মুল উদ্দেশ্য হল বিটকয়েনের সামগ্রিক তত্ত্বাবধান ও এটি পরিচালনার জন্য যথাযথ নীতিমালা তৈরি করা। তবে এটি সরকার স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠান নয়।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েনের স্বল্প সময়ে অধিক জনপ্রিয়তার অন্যতম একটি কারণ ছিল বিটকয়েন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সংস্থা ছিলনা। যার কারণে বিটকয়েন ছিল কর আওতাহীন। বিশ্বের ধনী ব্যাক্তিরা এই সুবিধাটির সুযোগ নিয়েছিল। এছাড়াও অনেক অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠে বিটকয়েন। বিটকয়েন নিয়ে তুমুল আলোচনা হওয়া শুরু করলে বিভিন্ন দেশে আইনের আওতায় এটিকে নিয়ে আসা শুরু হয়। সর্বপ্রথম উদ্যোগটি নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও বিটকয়েনের জন্য আলাদা করে কোন আইন তৈরি করা হয়নি। কিন্তু যে সমস্ত আইন বিদ্যমান রয়েছে তার মাধ্যমেই বিটকয়েন সম্পর্কিত অপরাধের বিচার করা হয়।
  • ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিটকয়েনকে কর আওতাধীন সম্পদ হিসেবে ঘোষণা দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সরাসরি বিটকয়েন wbqš¿b না করলেও এই সম্পর্কিত বিচার ব্যবস্থার সাথে জড়িত আছে। এছাড়াও কমোডিটি ও ফিউচার ট্রেডিং কমিশন, ফেডেরাল ট্রেড কমিশন এর মতন সংস্থাগুলো বিটকয়েন সম্পর্কিত জালিয়াতি বা প্রতারণার বিচার করে থাকে। যদিও এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা বিটকয়েন নিয়ন্ত্রণ করা হয় না।

বিটকয়েনের বাজারদর

বিটকয়েনের শেয়ার বাজার মূল্য প্রথম বাড়তে থাকে ২০১০ সালে। ২০১১ সালে এর মূল্য ১ ডলার থেকে ৩২ ডলার হয়ে যায়। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসেই এর বাজার মূল্য বেড়ে যায় ৩২০০ শতাংশ। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে এর বাজার দর শুরু হয় ১৩.৪০ ডলার দিয়ে। পরে তা বেড়ে হয়ে যায় ১১৫৬ ডলার। এরপরেই আবার এর দর হয়ে যায় ৭৬০ ডলার। এর থেকেই বোঝা যায় বিটকয়েনের বাজার মূল্যে রয়েছে অস্থিতিশীলতা। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস শুরু হলে পৃথিবী দেখতে পায় নতুন এক পরিবর্তিত পরিবেশ। কিন্তু এই সময়টাতেও বিটকয়েনের বাজার মূল্য ছিল উঠতির দিকে। এই বছরে বিটকয়েনের মূল্য শুরু হয় ৭,২০০ ডলারে। নভেম্বরে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,৩৫৩ ডলার। খুব সাম্প্রতিক সময়ে বিটকয়েনের বাজার দর কিছুটা নিম্ন গতিতে থাকলেও এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা বিটক্যেনে ১.৫ বিলিয়্ন ডলার বিনিয়োগ করার ফলে এর মূল্য আবার বেড়ে যায়।

Bitcoin Price History

বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিটকয়েন

বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা পশ্চিমা বিশ্ব ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে আমাদের উপমহাদেশেও। ভারত ও বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ২০২০ এর শেষের দিকে ও ২০২১ এর শুরুতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েন সম্পর্কিত সংবাদের ছিল সরব উপস্থিতি। ভারতের বিনিয়োগকারীরা দেশের আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিটকয়েনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তাই সরকারের কাছে ২০২১ সালের বাজেটে তারা কর আইন সহ অন্যান্য আইন  সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিটকয়েনের চিত্রটা ভিন্ন। বিটকয়েন ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বপ্রথম নোটিশ জারি করে ২০১৪ সালে। নোটিশে বলা হয় ফরেইন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন এক্ট, ১৯৪৭ ও মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন এক্ট, ২০১২ অনুসারে বাংলাদেশে থেকে বিটকয়েন লেনদেন করা হলে তা অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। (সূত্রঃ ডেইলি স্টার) কিন্তু সে সময়ে এই নোটিশ খুব মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়নি। ২০১৭ সালে যখন বিটকয়েন  বৈশ্বিকভাবে আবার আলোচনায় আসে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক আবারো একটি নোটিশ দেয়। তবে এবার আগের নোটিশের সাথে এন্টি টেরোরিজম এক্ট, ২০০৯ যুক্ত করে এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের বিটকয়েন লেনদেন ও এর প্রচারের সাথে সংযুক্ত থাকতে বিরত করে। নোটিশে বলা হয় বিটকয়েন কোন দেশের বৈধ কতৃপক্ষ কতৃক ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয়।( সূত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন)

এই নোটিশের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের  পত্রিকায়  বিটকয়েন নিয়ে বেশ কিছু লেখা ছাপানো হয়। বিটকয়েন নিয়ে বাংলাদেশ যে কঠোর অবস্থানে ছিল বর্তমানে তা কিছুটা শিথিল হয়েছে। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে এইচ এস বি সি ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ডাটাবেজ  ব্লক চেইন ব্যবহার করে প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পাদন করে। ব্লকচেইন হল এমন একটি ডাটাবেজ যেখানে একবার তথ্য সংযুক্ত করলে তা সহজে পরিবর্তন করা যায় না। ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখার জন্য বিটকয়েনের জনক এই ডাটাবেজটি তৈরি  করে। অগাস্ট,২০২০ এ স্ট্যান্ডার্ড চাট্যার্ড ব্যাংক ব্লকচেইনের  মাধ্যমে একটি ঋণপত্রের লেনদেন সম্পাদন করে।

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েন লেনদেন সম্পর্কিত  সুনির্দিষ্ট কোন আইন এখনো পর্যন্ত তৈরি  করে নি। বরং বৈশ্বিকভাবে বিটকয়েনের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর তালিকাতে বাংলাদেশের স্থান রয়েছে উপরের  দিকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বিটকয়েনে বিনিয়োগ হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও বিটকয়েন নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জন শোনা গেছে। বাংলাদেশে বিটকয়েনের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক কোন রূপ এখনো না পেলেও বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল উপায়ে যেমন ব্লকচেইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন করছে। হয়তো সেই দিন খুব দূরে নেই যেদিন বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিটকয়েনের লেনদেন শুরু হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply